জমে উঠেছে বানেশ্বরের আমের হাট, দাম চড়া

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলার বিখ্যাত বানেশ্বর হাটে জমে উঠেছে আমের বাজার। গোপালভোগ বা রানিপছন্দসহ কেনাবেচা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের গুটি জাতের আমও। তবে হাটে পাইকারির চেয়ে খুচরা ক্রেতা কম। গত মৌসুমের তুলনায় এবার সব আমের দাম বেশি বলেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

এটি পুঠিয়া উপজেলা হলেও দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট, পবা, মোহনপুর, বাগমারাসহ সব উপজেলার আম মূলত বেচাকেনা হয় এই বানেশ্বর হাটে। এ হাটে রয়েছে কয়েকটি বিশাল মোকাম। গত মৌসুমের তুলনায় এবার প্রতি মণ আম এক হাজার টাকা বেশি দামে কেনাবেচা হচ্ছে।

জেলার সবচেয়ে বড় বানেশ্বর হাটে প্রকারভেদে প্রতি মণ গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। আর গুটি জাতের আম প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে।

বৃহস্পতিবার বানেশ্বর আম হাটে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্গাপুর, চরঘাট, বাঘা, মোহনপুর, দুর্গাপুর ও বাগমারা উপজেলার আম কেনাবেচা হচ্ছে হাটে। হাটে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমনে আম নিয়ে আসছেন। এসব গাড়িতে ৩০–৬০টি ক্যারেট (আম রাখার ঝুড়ি) আম থাকছে।

সড়কের ওপরে বসা আমের হাটে কেনাবেচা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। হাটে শুধু পাকা আমই নয়, আচার তৈরির জন্য অনেক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা কিনছেন কাঁচা আমও। আচার তৈরির এসব আম প্রতি মণ কেনাবেচা হচ্ছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে।

দুর্গাপুর পৌর এলাকার রফিকুল ইসলাম। প্রায় ৩৫টা গাছ নিয়ে রফিকুলের গোপালভোগ আমের বাগান রয়েছে। তিনি চারটি গাছের আম পেড়ে বানেশ্বর হাটে বিক্রি করতে এসেছেন।

আরও পড়ুনঃ   বঙ্গবন্ধুর ডাকে রাজারবাগের পুলিশ সেদিন ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো

রফিকুল বলেন, ‘বৃষ্টি হওয়ায় গাছে আম পেকে যাচ্ছে। রাতে পাকা আম গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। তাই আজ প্রথম গোপালভোগ জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। চারটি গাছের আম হয়েছে ৭৩ ক্যারেট।’

আমের দাম এবার কেমন পাওয়া যাচ্ছে জানতে চাইলে রফিকুল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের দাম ভালো আছে।’ শেষ পর্যন্ত এমন দাম থাকলে ভালো টাকা পাবেন বলে আশা করেন তিনি।

এ বছর গাছে আম কম। তাই চাহিদা বেশি। অনেক ব্যবসায়ী গিয়ে বাগান চুক্তি আম কিনতে চাচ্ছে, দেয়নি। গত বছর মৌসুমের শুরুর এই সময়ে আমের দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ। কিন্তু এ বছর প্রতি মণে এক হাজার টাকা বেশি বলে জানান তিনি।

বানেশ্বর হাটের আম বিক্রেতা মামুন বলেন, গত দু–তিন দিন থেকে হাটে গোপালভোগ বা রানিপছন্দ আম বিক্রি হচ্ছে। এর আগে গুটি জাতের আম বিক্রি হয়েছে। তবে গুটি জাতের আমের চাহিদা কম। যারা কিনেছেন, তাঁরা আচার করার জন্য কিনেছেন। তবে এখন গোপালভোগ আম কেনাবেচা হচ্ছে, সেই আম মানুষ পাকা অবস্থায় খাবে। এখন আস্তে আস্তে সব আম পেকে যাবে।

আড়তে আম বিক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, হাটে আম বিক্রি হচ্ছে ঠিকই, তবে খুচরা ক্রেতা কম। বেশির ভাগ আম আড়তদারেরা কিনে নিচ্ছেন। তাঁরা একসঙ্গে চাষি ও ব্যবসায়ীদের থেকে বেশি করে আম কিনে ট্রাকভর্তি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠান। তবে সড়কের পাশে খুচরাভাবে আম কেনাবেচা হচ্ছে। হাটে প্রতিদিন আম কেনাবেচা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ   পিকআপ ভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ বছর লক্ষ্মণভোগ বা লখনা ৩০ মে এবং একই তারিখে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি গাছ থেকে নামানো যাবে। এ ছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা আম, ১৫ জুন আম্রপালি এবং ফজলি, ৫ জুলাই বারি-৪ আম, ১০ জুলাই আশ্বিনা, ১৫ জুলাই গৌড়মতি ও ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম নামানো যাবে। এ ছাড়া কাটিমন ও বারি-১১ আম সারা বছর সংগ্রহ করা যাবে।

বানেশ্বর আম হাটের ইজারাদার মাসুদ রানা বলেন, হাটে গোপালভোগ আম আশা শুরু হয়েছে। লক্ষ্মণভোগ, ক্ষীরশাপাতি ও ল্যাংড়া আসতে বাকি। হাটে আমের আসার হার বেড়েছে। এবার তুলনামূলক আমের ফলন কম। তবে ফলন কম হলেও আমের দাম ভালো আছে।

তিনি বলেন, গত বছর মৌসুমের শুরুতে গোপালভোগ আমের দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ। কিন্তু এ বছর একই সময় প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় আমের সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১৫ টন। এ বছর আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে। যার গড় ফলন ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক টন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, ‘এবার এই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়নি। তাই কম মুকুল আসলেও যেসব আম গাছে ধরেছিল, সেগুলো টিকে গেছে। দাম ভালো পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।’