বড় পর্দা থেকে দূরে কী করছেন অভিনেত্রী আরতি ছাবরিয়া

অনলাইন ডেস্ক : অক্ষয় কুমার, সালমান খান, গোবিন্দের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। বর্তমানে আলোর রোশনাই থেকে দূরে থেকে কী করছেন অভিনেত্রী আরতি ছাবরিয়া?

১৯৮২ সালের ২১ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে জন্ম আরতির। তিন বছর বয়স থেকে বিজ্ঞাপনে অভিনয় শুরু তার। তার পর নানা খ্যাতনামী সংস্থার বিজ্ঞাপনী প্রচারের জন্য মডেলিং করতে শুরু করেন তিনি। অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান, হৃতিক রোশনের মতো বলি তারকাদের সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতে দেখা গেছে আরতিকে।

১৯৯৯ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর মিউজিক ভিডিওয় অভিনয় করেন আরতি। সুখবিন্দর সিংহ, আদনান সামি এবং হ্যারি আনন্দের মতো গায়কদের মিউজিক ভিডিওয় অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে।

২০০১ সালে ‘লজ্জা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিপাড়ায় পা রাখেন আরতি। রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় এই ছবিতে রেখা, মনীষা কৈরালা, মাধুরী দীক্ষিত, মহিমা চৌধুরী, অনিল কাপুর, অজয় দেবগন, জ্যাকি শ্রফ-সহ বলিপাড়ার একাধিক তারকার সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এই ছবির শুটিং চলাকালীন এক অভিনেত্রীর কাছে চড় খান আরতি।

আরও পড়ুনঃ   জায়েদ খানের বউ হওয়া প্রশ্নে যা বললেন সায়ন্তিকা

২০০২ সালে নকুল কাপুরের বিপরীতে ‘তুমসে অচ্ছা কৌন হে’ ছবিতে অভিনয় করেন আরতি। একই বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আওয়ারা পাগল দিওয়ানা’ ছবিতে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে।

২০০৩ সালে গোবিন্দের সঙ্গে ‘রাজা ভাইয়া’ ছবিতে অভিনয় করেন আরতি। কিন্তু হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে সফল হননি তিনি। তাই দক্ষিণী ফিল্মজগতের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন আরতি।

পাঞ্জাবি, তেলুগু এবং কন্নড় ভাষার ছবিতে অভিনয় করতে শুরু করেন আরতি। তার পাশাপাশি ‘অব তুমহারে হাওয়ালে ওয়াতন সাথিয়োঁ’, ‘শাদি নম্বর ওয়ান’, ‘হে বেবি’, ‘শুটআউট অ্যাট লোখন্ডওয়ালা’, ‘মিলেঙ্গে মিলেঙ্গে’, ‘পার্টনার’-এর মতো একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।

২০১১ সালে ‘ফিয়ার ফ্যাক্টর: খতরো কে খিলাড়ি ৪’ রিয়্যালিটি শোয়ে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন আরতি। ছোট পর্দার জনপ্রিয় নাচের একটি রিয়্যালিটি শোয়ের প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ   ছেলেকে পাশে নিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে অভিনেত্রী

একাধিক ছবিতে অভিনয় করা সত্ত্বেও ক্যারিয়ারে সাফল্যের স্বাদ পাচ্ছিলেন না আরতি। সেই কারণে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

২০১২ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে গিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উপর প্রশিক্ষণ নেন আরতি। নিজস্ব একটি প্রযোজনা সংস্থাও খোলেন তিনি।

এর পর একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি পরিচালনার দায়িত্ব নেন আরতি। ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবিটি দেশ-বিদেশের নানা চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়।

২০১৯ সালে বিশারদ বিডাসির সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন আরতি। অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা বিশারদ পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। বিয়ের প্রায় পাঁচ বছর পর চলতি বছরের মার্চ মাসে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন আরতি।

বর্তমানে বিভিন্ন মিউজিক ভিডিও প্রযোজনার কাজ করেন। তা ছাড়া অনলাইন মাধ্যমে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও খুলেছেন তিনি।

আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে মানুষ কীভাবে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারেন, আদর্শ জীবনসঙ্গী কীভাবে খুঁজে পাওয়া যায়— এই সব বিষয় নিয়ে নিজের শো সঞ্চালনা করেন আরতি। এই শোয়ের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকা আয় করেন তিনি।