চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অপহরণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি পলকের শ্যালকের

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোর জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে তুলে এনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ করা হয়েছিল। ওই মাইক্রোবাসটি মালিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর শ্যালক ও আওয়ামী-লীগ নেতা লুৎফুল হাবীব রুবেলের। তিনি এই নির্বাচনে একাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। তবে এ ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মাইক্রোবাসটি আটক করতে পারেনি।

এদিকে পুলিশ বলছে, পুলিশের কাছে থাকা ঢাকা মেট্রো-চ সিরিয়ালের যে নাম্বারটি রয়েছে, সেই নাম্বারটির সুত্র ধরে অপহরণ করা কালো রঙের মাইক্রোবাসের অনুসন্ধান করছেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে সিংড়া উপজেলার কয়েকজন সাংবাদিক ও একজন গাড়িচালক মাইক্রোবাসটি লুৎফুল হাবীব রুবেলের বলে নিশ্চিত করেছেন। ওই গাড়ীর চালক সুজন। তবে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকায় তারা তাদের নাম প্রকাশ করেননি।

লুৎফুল হাবীব রুবেল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি মাইক্রোবাসটির মালিক বলে স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সেটি তিনি মাইক্রোবাসটি ভাড়ায় খাটান। অপহরণের কাজে মাইক্রোবাসটি ব্যবহার হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবেন না।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে লুৎফুল হাবীব রুবেল জানান, মঙ্গলবার থেকে তিনি মাইক্রোবাসটির খোঁজ পাচ্ছেন না। চালকের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে তিনি জিডি করবেন বলেও জানান।

আরও পড়ুনঃ   শিবগঞ্জ উপজেলায় ফের চেয়ারম্যান হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

এদিকে আলোচিত মাইক্রোবাসটি চার দিনেও আটক করতে পারেনি পুলিশ। গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর ও মালিকানার তথ্য পুলিশের কাছে আছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মামলার তদন্তে স্বার্থে দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্ত অফিসার (উপ-পরির্দশক) এসআই জামাল বলেন, গাড়িটি যিনি চালাচ্ছিলেন তাকে শনাক্ত করা গেছে। তার নাম সুজন। ভিডিও ফুটেজ থেকে গাড়িটির যে নিবন্ধন নম্বর পাওয়া গেছে, তা বিআরটিএতে পাঠানো হয়েছে। বিআরটিএর কাছে প্রতিবেদন পেলে উল্লেখ গাড়িটির মালিকানার তথ্য নিশ্চিত করা যাবে।

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অনেক সময় ভিডিওর অস্পষ্টতার কারণে ভুল নম্বর আসতে পারে। তাই আমরা গাড়িটি আটক করার চেষ্টা করছি। ঘটনার পর থেকে গাড়িটি জনসমক্ষে বের হয়নি। গাড়িটি আটক করার পর বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুনঃ   জাতির পিতার সমাধিতে জাফর ওয়াজেদের শ্রদ্ধা

উল্লেখ্য সোমবার বিকেলে নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতর থেকে লুৎফুল হাবীব রুবেল এর সমর্থকরা দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করতে করতে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। বিকেল পাঁচটার কিছু পরে দুর্বৃত্তরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় তার গ্রামের বাড়ি সিংড়ার কলম ইউনিয়নের পারসাঐল গ্রামে সামনে ফেলে রেখে যায়। ওই ঘটনায় জড়িত অন্তত ১৩ জনের পরিচয় জানা গেছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা তাদের শনাক্ত করেছেন। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী। তাদের মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুল হাবীব রুবেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও গাড়িচালকও রয়েছেন। তবে পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি।