জন্মদিনে জীবনের অজানা গল্প শোনালেন সিরাজ

অনলাইন ডেস্ক : ভারতীয় তারকা পেসার মোহাম্মদ সিরাজের ৩০তম জন্মদিন ছিল গতকাল (বুধবার)। এদিন তার জীবনের অজানা কিছু গল্প নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে বিসিসিআই। যেখানে নিজের সংগ্রাম, অতীত স্মৃতি ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো নানা অজানা তথ্য সিরাজ নিজেই তুলে ধরেছেন। গাড়ি চালাতে চালাতে তিনি বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেন আর ফিরে যান নিজের শৈশবের ঠিকানা হায়দরাবাদে।

বিসিসিআইয়ের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই ভিডিওটি শুরু হয় এভাবে— অভাবের তাড়নায় ২০১৯-২০ সালে সিরাজ ভেবেছিলেন ক্রিকেটই ছেড়ে দেবেন পুরোদমে। একসময় ক্যাটারিংয়ের কাজও করেছেন। এভাবে ধীরে ধীরে তার বর্ণনা প্রবেশ করে ঘটনার আরও গভীরে। পুরো ভিডিওতে হায়দরাবাদে সিরাজের পছন্দের জায়গাগুলো ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে।

ডানহাতি এই তারকা পেসার বলেন, ‘হায়দরাবাদে নামলেই প্রথমে বাড়ি ফেরার কথা ভাবি। তারপর ঈদগাহ ময়দানে যাই। কারণ, বিশ্বে যেখানেই যাই না কেন, ঈদগাহ ময়দানের মত শান্তি কোথাও পাই না। এখান থেকেই আমি খেলা শুরু করেছিলাম। প্রথমে টেনিস বল দিয়ে বোলিং শুরু করি, এরপর জেলা দলের সঙ্গে খেলেছি। যদিও ওই সময় এলাকার বাইরে একা যেতে অনুমতি দিতো না পরিবার, বন্ধুর নাম বলে বের হতে হতো।’

আরও পড়ুনঃ   শূণ্য রানেই ৭ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড

নিজের অতীত স্মৃতি তুলে ধরে সিরাজ আরও বলেন, ‘ক্যাটারিংয়ে কাজ করতাম। বাড়ির লোকজন পড়তে বলতো। কিন্তু আমার ক্রিকেটটাই বেশি ভালো লাগতো। ভাড়াবাড়িতে থাকতাম, যেখানে বাবাই ছিল একমাত্র রোজগারের উৎস। তাই ক্রিকেট থেকে রোজগার হলে ভালো লাগতো। সেখান থেকে ২০০ টাকা পেলে, সেটাতেই আমার মন ভরে যেত। পুরো টাকা অবশ্য খরচ করতাম না। ১০০-১৫০ টাকা তো বাড়িতেই দিয়ে দিতাম। একবার তো রুমালি রুটি বানাতে গিয়ে হাতই পুড়ে গিয়েছিল। তবে তাতে কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ কষ্ট করেছি বলেই আজ এই জায়গায় আসতে পেরেছি।’

আরও পড়ুনঃ   আইপিএলে প্লে অফের দৌড়ে এগিয়ে কারা?

এভাবে পর্যাপ্ত অর্থ না মেলায় একপর্যায়ে খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন সিরাজ, ‘২০১৯-২০ সালে তো ঠিক করে ফেলেছিলাম, খেলাটাই ছেড়ে দেব। কিন্তু সত্যি বলতে কী, কঠোর পরিশ্রম করলে কোনোদিন তা বৃথা যায় না। সেদিন ফল না পেলেও, আজ হোক বা কাল, পরিশ্রম আপনার কাজে লাগবেই।’

সিরাজ পুরোনো সেই সব দিনের কথা না ভুললেও, তার আর্থিক পরিস্থিতি কিন্তু আজ বদলে গেছে। বর্তমানে বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের একজন এই পেসার। এর বাইরে ম্যাচ ফি, আইপিএল ও সবমিলিয়ে বড় অঙ্কের রোজগার তার। নিজেই বিলাসবহুল গাড়ির মালিক, ভিডিওতে দেখা যায়– সেই গাড়ি চালিয়ে সিরাজ নিজের শৈশবের মাঠেও গিয়েছেন। যেখানে ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, নিজে বড় উচ্চতায় পৌঁছালে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেননি। সেসব বন্ধু ও এলাকার পরিচিতদের মুখে সিরাজের প্রশংসামাখা মন্তব্যও শোনা যায় ভিডিওতে।